রোববার ছিল সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরের রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার দুই বছর। ২০২৪ সালের ১ নভেম্বরের সেই ট্র্যাজেডি থেকে শুরু হওয়া ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দুই বছরের মাথায় বদলে দিয়েছে দেশটির সরকারই — গত সপ্তাহে ক্ষমতায় এসেছে ছাত্রদের গড়া বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। একটি দুর্ঘটনার জবাবদিহির দাবি কীভাবে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিল, তা এখন ইউরোপজুড়ে আলোচনার বিষয়।
সংস্কারকাজ শেষ হওয়া নোভি সাদ স্টেশনের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ঘটনাস্থলেই মারা যান ১৪ জন; পরে হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। কাজের মান, সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতার অভাব আর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে তখনই ফেটে পড়ে জনরোষ। মাত্র চার দিনের মাথায় নোভি সাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন; পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ডজনখানেক বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হন। চাপের মুখে ২১ নভেম্বর সাবেক নির্মাণমন্ত্রী গোরান ভেসিচসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায় ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে, যখন বেলগ্রেডে নিহতদের স্মরণসভায় অংশ নেওয়া ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ছাত্ররা; দাবি ওঠে হামলাকারীদের বিচার, স্টেশন সংস্কারের সব নথি প্রকাশ এবং আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তির। ডিসেম্বরে কর্তৃপক্ষ ১৯৫টি নথি প্রকাশ করলেও ছাত্ররা তা অপর্যাপ্ত বলে প্রত্যাখ্যান করেন। একই মাসে অভিযুক্ত হন ১৩ জন, আর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্টেশন সংস্কার ঘিরে আর্থিক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের আলাদা তদন্তও শুরু হয়।
২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হামলায় নোভি সাদের শিল্পকলা একাডেমির ছাত্ররা গুরুতর আহত হলে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচ — আন্দোলনের প্রথম বড় রাজনৈতিক সাফল্য। তবু থামেনি বিক্ষোভ; ১৫ মার্চ বেলগ্রেডে সমবেত হন লাখ লাখ মানুষ, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জমায়েত।
চূড়ান্ত পরিণতি আসে এই বছরে। সেপ্টেম্বরে আগাম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণার পর ছাত্র আন্দোলন রূপ নেয় রাজনৈতিক শক্তিতে — গঠিত হয় ‘স্টুডেন্ট লিস্ট–স্টুডেন্টস উইন’ জোট। দীর্ঘদিনের নেতা আলেক্সান্দার ভুচিচ প্রেসিডেন্টের পদ ছেড়ে নিজ দলের নির্বাচনি তালিকার নেতৃত্ব নেন এবং মেয়াদের শেষ দিনে মামলায় অভিযুক্ত সব ছাত্র ও কর্মীকে ক্ষমা করে দেন। অক্টোবরের নির্বাচনে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতিতে ভুচিচ ছাত্র তালিকার কাছে পরাজয় মেনে নেন।
তবে ক্ষমতার পালাবদল হলেও নোভি সাদ ট্র্যাজেডির জবাবদিহির প্রশ্নটি এখনো সার্বিয়ার রাজনীতির কেন্দ্রে রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই বছর পরও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিহতদের স্বজন ও আন্দোলনকারীরা।






