পবিত্র মক্কা ও মদিনার দেশ সৌদি আরবে এবারও জমজমাটভাবে পালিত হয়েছে পশ্চিমা উৎসব হ্যালোইন। গত ৩১ অক্টোবর রাতে রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে ভয়ংকর সব সাজে হাজির হন শত শত মানুষ। ঐতিহ্যবাহী সৌদি পোশাক থোবে ও গুতরার ওপর জম্বি-ভূতের ভয়াল মেকআপ করা একদল তরুণের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মুসলিম বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক।
এবারের আয়োজনে রিয়াদের গ্র্যাভিটি বিনোদনকেন্দ্রে ছিল হরর রুম, ফেস পেইন্টিং ও পোশাক প্রতিযোগিতা। বিলাসবহুল রিটজ-কার্লটন হোটেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেওয়ার জন্য ছিল বিশেষ ‘হন্টেড ব্রাঞ্চ’, যেখানে শিশুদের জন্য ছিল কুমড়া সাজানো ও মুখে রং করার আয়োজন। এছাড়া চোট্টো মাট্টে রেস্তোরাঁয় ‘জোকার’ থিমের অনুষ্ঠান আর কোই রেস্তোরাঁয় পোশাকধারীদের জন্য বিশেষ রাতের আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।
সৌদি আরবে হ্যালোইনের এমন প্রকাশ্য আয়োজন নতুন নয়। ২০২২ সালে ‘রিয়াদ সিজন’ উৎসবের অংশ হিসেবে প্রথমবার বড় আকারে ‘স্ক্যারি উইকেন্ড’ পালিত হলে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় দেশটি বিনোদন খাতকে উন্মুক্ত করার পর থেকে কনসার্ট, ফ্যাশন শোসহ নানা পশ্চিমা ধাঁচের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
তবে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচিত দেশটিতে এমন উৎসব পালন নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বড় অংশই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে লিখেছেন, মক্কা-মদিনার দেশে এ ধরনের উৎসব ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে আয়োজকদের ভাষ্য, এগুলো নিছক বাণিজ্যিক বিনোদন আয়োজন; হ্যালোইন সৌদি আরবের কোনো সরকারি উৎসব নয় এবং অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে হ্যালোইনের বাণিজ্যিক উপস্থিতি প্রতি বছর বাড়লেও তা এখনো সর্বমহলে গৃহীত হয়নি; বরং বিনোদন ও বিশ্বায়নের এই বিস্তার রক্ষণশীল সমাজে বিতর্ক আরও উসকে দিচ্ছে।






