মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকা, বাংলাদেশ | সময়: --:--:--
সত্য ও তথ্যের মেলবন্ধনtodaybd24.com
শিরোনাম
মানুষের কাছে হাত পেতে ছেলেকে বাঁচিয়েছি, সেই ছেলে এখন ফোনও ধরে না: হাফেজ তাশরীফের বাবা ● ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, তবু প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে প্রতিযোগীরা ● ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা? রিটার্ন না দিলে আসলে যা হয় ● ৪ হাজার ডলারের নিচে স্বর্ণ, আরও পতনের শঙ্কা ● মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চাইল ঢাকা ● শিক্ষককে মারধরের মামলায় শিশুর বাবা রুমিকে ধরতে পুলিশের অভিযান ● শুল্কের হুমকি দিয়ে যুদ্ধ থামালেও নোবেল মিলল না, আক্ষেপ ট্রাম্পের ● ‘কিং’ ছবির গানে আবার একসঙ্গে শাহরুখ-দীপিকা, ২৬ অক্টোবর থেকে শুটিং

ই-টিন থাকলেই ৫ হাজার টাকা জরিমানা? রিটার্ন না দিলে আসলে যা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২৫ অক্টোবর ২০২৬  |  অর্থ ও বাণিজ্য
ই-টিন নিবন্ধন

ই-টিন নিবন্ধন থাকলেই আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে — বিষয়টি এমন নয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ নির্ভর করে করদাতার আয় আগে নিরূপণ হয়েছে কি না এবং তার ক্ষেত্রে আইনের কোন বিধান প্রযোজ্য, তার ওপর। আর এ জরিমানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপও হয় না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আয়কর আইনের ধারা ২৬৬-তে নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য জরিমানার বিধান রয়েছে, যা আরোপ করতে পারেন সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার। ধারা ২৬৬(১) অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা হতে পারে; ন্যূনতম অঙ্ক ১ হাজার টাকা। ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।

তবে আইন জরিমানার সর্বোচ্চ সীমাও বেঁধে দিয়েছে। আগে কখনো আয় নিরূপণ হয়নি — এমন ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫ হাজার টাকা। আর আগে আয় নিরূপণ হয়ে থাকলে সর্বোচ্চ সীমা হবে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা — যেটি বেশি। অর্থাৎ ৫ হাজার টাকা সবার জন্য নির্ধারিত জরিমানা নয়; এটি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সীমা মাত্র।

শুধু ই-টিন থাকা কিংবা আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকা দিয়েই রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয় না। সাধারণভাবে যাদের রিটার্ন দিতে হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন — বার্ষিক আয় প্রযোজ্য করমুক্ত সীমা অতিক্রম করা ব্যক্তি, আগের বছরগুলোতে আয় নিরূপণ হয়েছে এমন করদাতা, ফার্মের অংশীদার, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী, সরকারি কর্মচারীসহ আইনে নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তি এবং যাদের নির্দিষ্ট সেবা নিতে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হয়।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য সাধারণ করদিবস ৩০ নভেম্বর। এনবিআর কোনো করবর্ষে সময় বাড়ালে বর্ধিত সময়সীমাই প্রযোজ্য হয় — যেমন ২০২৫-২৬ করবর্ষে ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে না পারলে বিষয়টি ফেলে না রেখে প্রযোজ্য কর, অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানার হিসাব যাচাই করা উচিত।

রিটার্ন জমা দিয়েছেন কি না নিশ্চিত না হলে এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) লগইন করে কোন কোন করবর্ষের রিটার্ন জমা হয়েছে, তা দেখে নেওয়া যায়। বকেয়া থাকলে নিয়ম অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল করতে হবে; জরিমানার নোটিশ এলে কোন করবর্ষে ও কী কারণে তা আরোপ হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত — প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। শর্ত পূরণ হলে টিআইএন বাতিলের আবেদনও করা যায়, তবে তা কর্তৃপক্ষের যাচাই ও সিদ্ধান্তের বিষয় এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে আলাদা।

অনলাইনে রিটার্ন জমার সময় সঠিক করবর্ষ বেছে নেওয়া এবং আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়ের তথ্য যথাযথভাবে দেওয়া জরুরি। জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার বা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটে এনআইডি, টিআইএন, পাসওয়ার্ড কিংবা আর্থিক তথ্য দেবেন না।

সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)