মুনিয়ার বাসায় আনভীরের যাতায়াতের তথ্য পেয়েছে পু’লিশ
0 1 min 5 dys

ঢাকার গুলশানের আ’লোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার লা’শ উ’দ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মা’মলার আলামত হিসেবে জ’ব্দ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পু’লিশ। গুলশানের ওই বাসার মূল গেইটে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মুনিয়ার বাসায় বসুন্ধ’রার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের তথ্য পেয়েছে পু’লিশ।

ঘটনার একদিন আগে মুনিয়া নিজেও বাসার বাইরে গিয়েছিলেন। রাতে মুনিয়া একাই ওই বাসায় প্রবেশ করেন। এসময় স’ন্দেহভাজন অন্য কারও যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়নি। ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট পু’লিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
মা’মলার ত’দন্ত তদারক কর্মক’র্তা পু’লিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমা’র চক্রবর্তী বলেন, ‘আম’রা সিসিটিভি ফুটেজের প্রতিটি সেকেন্ড বিশ্লেষণ করছি। ফুটেজে অনেক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মা’মলার ত’দন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে এগুলো কাজে লাগবে।’

গত ২৬ এপ্রিল গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লা’শ উ’দ্ধার করে পু’লিশ। পরে এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন বাদি হয়ে গুলশান থা’নায় আত্মহ’ত্যায় প্র’রোচনার অ’ভিযোগ এনে একটি মা’মলা দায়ের করে। মা’মলায় একমাত্র আ’সামি করা হয় বসুন্ধ’রা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে।

ঘটনার দিন বের হয়নি মুনিয়াত’দন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তারা জানান, বাসার সামনের গেটের সিসিটিভি ফুটেজে তারা ঘটনার আগের দিন রাতে স্বাভাবিকভাবেই মুনিয়াকে ওই অ্যাপার্টমেন্টে ফিরতে দেখেন। তবে ঘটনার দিন মুনিয়া বাসা থেকে বের হয়নি। বসুন্ধ’রার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে সর্বশেষ ২০ এপ্রিল বিকালে ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করতে এবং বের হয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে ত’দন্তের স্বার্থে পু’লিশ কর্মক’র্তারা ফুটেজের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করতে চাননি।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মক’র্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ছাড়াও মুনিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করিয়ে তার সঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের প্রে’মের স’ম্পর্কের বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। ঠিক কী’ কারণে তাদের মধ্যে ‘ঝামেলা’ হয়েছিল এবং ভিকটিমকে মোবাইলে ফোনে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে কী’ ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া মুনিয়ার ব্যবহৃত ছয়টি ডায়েরিতে সায়েম সোবহান আনভীরকে উদ্দেশ্য করে লেখা অ’ভিমান ও হতাশার কথাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মা’মলার এজাহারে মুনিয়ার বড় বোন অ’ভিযোগ করেছেন, বসুন্ধ’রার এমডির সঙ্গে তার বোন মুনিয়ার প্রে’মের স’ম্পর্ক ছিল। গুলশানের বাসাটি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে মাসিক এক লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হলেও এর ভাড়া পরিশোধ করতেন আনভীর। ফেসবুকে একটি ছবি আপলোড করাকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান আনভীর তার বোনের (মুনিয়া) ওপর ক্ষুব্ধ হয়। আনভীরের প্র’রোচনায় তার বোন আত্মহ’ত্যা করেছে বলে তিনি মা’মলায় অ’ভিযোগ করেন।

ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তারা জানান, ঘটনার দিন গুলশানে মুনিয়ার বাসায় প্রথম যান তার বড় বোন নুসরাত জাহান ও তার দুই স্বজন। মা’মলার এজাহারে তারা এই ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সকালে মুনিয়া তার বড় বোনকে দ্রুত ঢাকায় আসতে বলে। সকাল নয়টার দিকে একবার ও পরে এগারোটার দিকে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে নুসরাত তার একাধিকবার মোবাইলে কল দিলেও মুনিয়া তা রিসিভ করেনি।

নুসরাত জানান, ২৬ এপ্রিল বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তারা গুলশানের ওই বাসায় পৌঁছান। বাইরে থেকে একাধিকবার কলিং বেল বাজালেও ভেতর থেকে কোনও সাড়া পাননি। পরে তিনি নিচের কেয়ারটেকারের মাধ্যমে বাসার ইন্টারকম টেলিফোনে ফোন করেও সাড়া পাননি। বিষয়টি ফ্ল্যাট মালিককে জানালে তার পরাম’র্শে মিস্ত্রি ডেকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা।

নুসরাত বলেন, ‘ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শয়নকক্ষে মুনিয়াকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। এ সময় তার পা দুটো বিছানার সঙ্গে কিছুটা ভাঁজ করা ছিল। মা’মলার এজাহারে আত্মহ’ত্যায় প্র’রোচনার কথা উল্লেখ করেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তাকে হ’ত্যার পর লা’শ সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে।’

গুলশান থা’না পু’লিশ জানায়, খবর পেয়ে তারা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই বাসা থেকে মুনিয়ার লা’শ উ’দ্ধার করেন। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন গুলশান থা’নার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একজন নারী কনস্টেবল ও ভিকটিমের বোন নুসরাত জাহানসহ উপস্থিত স্বাক্ষীদের সামনে তিনি সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা মুনিয়ার লা’শ নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। উ’দ্ধারের সময় লা’শের নাক ও কান স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। চোখ দুটি বন্ধ ছিল। জিব আধা ইঞ্চি বাইরে বের করা এবং দাঁত দিয়ে কামড়ানো অবস্থায় ছিল।

সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, লা’শ উ’দ্ধারের সময় জিহ্বা দিয়ে সামান্য লালা বের হতে দেখা গিয়েছে। গলার বাম দিকে অর্ধাচন্দ্রাকৃতি গভীর কালোদাগ ছিল। হাত দুটি শরীরের সঙ্গে লম্বা অবস্থায় অর্ধেক মুষ্ঠিবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
সুরতহাল প্রতিবেদনে পু’লিশ আরও বলছে, একজন নারী কনস্টেবল ও মুনিয়ার বড় বোন নুসরাতের মাধ্যমে মৃ’তদেহ ওলট-পালট করে বুক, পেট ও পিঠ স্বাভাবিক দেখতে পাওয়া যায়। দুই পা লম্বালম্বি অবস্থায় ও পায়ের আঙুল নিম্নমুখী অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া মৃ’তদেহের যৌ’না’ঙ্গ দিয়ে লালচে রঙের পদার্থ নির্গত হতে দেখা গেছে।

পু’লিশ কর্মক’র্তারা বলছেন, ভিকটিম ধ’র্ষিত হয়েছেন কি না, ধ’র্ষিত হয়ে থাকলে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ বা ভিকটিমকে কোনও প্রকার বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য ময়নাত’দন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাত’দন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃ’ত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, ‘বিষয়টি সেনসেটিভি। ময়নাত’দন্ত সম্পন্ন হলেও পুরোপুরি মন্তব্য করার সময় আসেনি। ডিএনএ নমুনা ও ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এগুলো পু’লিশের অ’প’রাধ ত’দন্ত সংস্থা- সিআইডি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এসব প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃ’ত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে। সোমবার শুধু ময়নাত’দন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন পু’লিশের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধ্যান অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘সোমবার প্রাথমিক ময়নাত’দন্ত রিপোর্ট পু’লিশের কাছে দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে কী’ রয়েছে এটা আমা’র বলা সমীচিন হবে না। ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরাই বলবেন।’

এদিকে ত’দন্ত সংশ্লিষ্ট পু’লিশের এক কর্মক’র্তা বলছেন, প্রাথমিকভাবে তারা ঘটনটি আত্মহ’ত্যা বলে নিশ্চিত হয়েছেন। হ’ত্যার পর কেউ লা’শ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখলে শরীরে আরও ইন’জুরি দেখা যেত। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজেও ওই বাসায় ঘটনার দিন স’ন্দেহভাজন কাউকে যাতায়াত করতে দেখা যায়নি। তারা আত্মহ’ত্যার প্র’রোচনার তথ্য-উপাত্ত প্রমাণের জন্য অনুসন্ধান করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *