স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ছে না মাদক এলএসডি | todaybd24.com
রবিবার , ১৫ মে ২০২২ | ১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আয় করুন
  4. আলোচিত সংবাদ
  5. খুলনা
  6. খেলাধুলা
  7. চট্টগ্রাম
  8. জাতীয়
  9. জেলার খবর
  10. টিপস
  11. ঢাকা
  12. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নিউজ
  15. পরিবার
esenler korsan taksi
সর্বশেষ খবর টুডে বিডি ২৪ গুগল নিউজ চ্যানেলে।
   

স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ছে না মাদক এলএসডি

                                           প্রতিবেদক
News Desk
মে ১৫, ২০২২ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

Advertisements

ভয়ংকর মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড (এলএসডি)। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মাদকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এটি। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশে আসছে এই মাদক।

Advertisements
Advertisements
Advertisements

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই মাদক উদ্ধার করে। এরপর কয়েকটি চালান উদ্ধার করেছে পুলিশ-র‌্যাব। এর সবই বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ঢুকেছে।অথচ বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ছে না ভয়ংকর এই মাদক। এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধেই তারা নিয়ে আসছে এলএসডি। বিক্রি করছে অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে, যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মাদক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে।

Advertisements
Advertisements
Advertisements

জানতে চাইলে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) কুসুম দেওয়ান যুগান্তরকে বলেন, ধরন ও আকারের দিক থেকে এলএসডি অন্য মাদকের চেয়ে আলাদা।

এজন্য এয়ারপোর্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার সার্ভিসের চেকিং প্রক্রিয়ায় জড়িতদের এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা জরুরি। পাশাপাশি যেসব দেশ থেকে এই মাদক আসছে, তাদের চেকিং ব্যবস্থায়ও ঘাটতি রয়েছে।

তা না হলে সেগুলো বহন করে নিয়ে আসা সম্ভব হতো না। এজন্য আমাদের বিমানবন্দরের পাশাপাশি পুরো স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট স্ট্রিকারের মতো স্ট্রিপ, ব্লটার পেপারে বা নকশা করা কাগজে থাকে মাদক এলএসডি; যা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে।

বেশির ভাগ সময়ে আনা হচ্ছে বই বা নোটবুকে ঢুকিয়ে। আসছে কুরিয়ারেও। দেশে এলএসডির মূল গ্রাহক উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। সেবনকারীদের বড় অংশ পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ও সম্পৃক্ত হয়েছে।

পারিবারিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকা মানুষের সন্তানরা দেশে ফেরার সময় এলএসডি নিয়ে আসছে। ফলে বিমানবন্দরে চেকিংয়ে অনেক সময় তারা ছাড় পাচ্ছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।

দেশে যে চালানগুলো ঢুকছে, এর বেশির ভাগই তাদের মাধ্যমে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে বিক্রি হচ্ছে এলএসডি। এই অ্যাপগুলোয় ব্যবহার হচ্ছে বিদেশি সিম নম্বর।

যার নিবন্ধনও দেশের বাইরের। আর ওই অ্যাপ ব্যবহার করা মোবাইল ফোনগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হচ্ছে অন্য ফোনের হটস্পটের মাধ্যমে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করেও তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এলএসডি শনাক্ত নিয়ে শুরু থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ডিএনসির প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা যুগান্তরকে বলেন, ‘এই মাদকের ধরনটা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

কারণ সামান্য একটা কাগজে এটা এমনভাবে বহন করা হয়, সাধারণভাবে তা বোঝারও সুযোগ থাকে না।’ বিমানবন্দরের স্ক্যানিংয়েও ধরা না পড়ায় এ দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

তাহলে কীভাবে এই মাদক শনাক্ত হবে, তা নিয়ে ভাবছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। সম্প্রতি ডিএনসির পরিচালক অপারেশন্সের নেতৃত্বে একটি দল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিজিটেও গেছেন।

সেখানে তারা মাদক আনা-নেওয়া রুখতে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রী ও কুরিয়ার পণ্যের স্ক্যানিং ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি শনাক্তে ডগ স্কোয়াডকে প্রশিক্ষিত করে কাজে লাগানোসহ নানা প্রস্তাবও এসেছে।

তবে সেই আলোচনা বেশিদূর এগোয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু ওয়েবসাইটের ওপর নজরদারিতেই অনেকটা সীমাবদ্ধ রয়েছে এলএসডি শনাক্ত প্রক্রিয়া। এই সুযোগে ডার্ক ওয়েবেও চলছে বেচাকেনা।

মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে বিটকয়েন। জানতে চাইলে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, এয়ারপোর্টে সাধারণত মোট যাত্রীর পাঁচ শতাংশকে চেক করা হয়।

আরও পড়ুন:  সিরিয়ায় ইসরাইলি মিসাইল হামলায় নিহত ৯

ফলে যাদের চেক করা হচ্ছে তাদের কাছে হয়তো এলএসডি পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া স্ক্যানিংয়ে এলএসডি এলে সেটা কেমন হবে-এ বিষয়ে এয়ারপোর্টে কর্মরতদের যথাযথ প্রশিক্ষণ আছে কি না, তাও দেখার বিষয়।

যেহেতু এটি একেবারেই নতুন একটি মাদক, তাই অনেক যাত্রী হয়তো আসার সময় এটি নিয়ে আসছে। কিন্তু বোঝাও যাচ্ছে না।

এদিকে বিমানবন্দরের স্ক্যানিং ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। একবার স্ক্যানিং মেশিন বিকল হলে তা মেরামতে এক থেকে দুই মাস লেগে যায়। একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় একটি চক্র এই সুযোগে মাদকসহ নানা অবৈধ পণ্য পাচার করে।

দুর্বল নিরাপত্তা ও স্ক্যানিংয়ের অভিযোগে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ গোটা ইউরোপ বাংলাদেশ থেকে আকাশ ও নৌপথে পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতায় ও সরকারের প্রচেষ্টায় এই নিষেধাজ্ঞা ওঠানো হয়।

তবে দেশের বিমানবন্দরে অডিট অভিযান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ অবস্থায় স্ক্যানিং ব্যবস্থাকে আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউজের উপকমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির বলেন, বিদেশফেরত যাত্রীদের সবাইকে স্ক্যানিংয়ের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। সব যাত্রীকে স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনলেযাত্রীর তুলনায় আমাদের অবকাঠামোগত দুর্বলতা আছে। অন্যান্য দেশে লাগেজগুলো সব স্ক্যানিং হয়ে আসে। আমাদের দেশে ম্যানুয়ালি সেটা করতে হয়। ফলে যেহেতু সবাইকে স্ক্যান করা হয় না, তাই মাদক আনার সুযোগ থাকতেই পারে।

অন্যদিকে কুরিয়ার শিপমেন্টের ক্ষেত্রে সব যাচাই করা হয় না। যেগুলো হয়, সেখানেও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া খুঁজে বের করা কঠিন। এগুলোই হচ্ছে মূল সমস্যা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে যদি এলএসডি শনাক্তের প্রক্রিয়া জানানো হয় তাহলে আমাদের জন্য সহজ হবে। কারণ স্ক্যানিংয়ে স্বর্ণ, মুদ্রা বা সিগারেট শনাক্ত করা গেলেও এই মাদক শনাক্ত করা কঠিন।

মাদক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, ১৯৯০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলএসডি তালিকাভুক্ত মাদক। কিন্তু দেশে এর উৎপাদন না থাকায় এবং দাম বেশি হওয়ায় এটি সহজলভ্য হতে পারে, তা তাদের ধারণাতেও ছিল না।

২০১৯ সালে দেশে প্রথমবারের মতো এলএসডি উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সরকারের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার ছেলে ইয়াসের রিদওয়ান আনান (২০) কানাডা থেকে আকাশপথে ফেরার সময় এই মাদক নিয়ে এসেছিল।

এরপর দীর্ঘদিন কোনো চালান ধরা পড়েনি। ২০২১ সালের ১৫ মে এলএসডি সেবনের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ ও ২৯ মে রাজধানী থেকে আরও দুটি চালানসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সর্বশেষ ৯ এপ্রিল ঢাকার মাতুয়াইল থেকে ৯৬ পিস রঙিন প্রিন্টেড ব্লট পেপার স্ট্রিপ (এলএসডিসহ) একজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০, যা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়।

এই চালানটি ২২ মার্চ বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ঢোকে। এই সব চালানই আকাশপথে যাত্রী ও কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশে এসেছে। অথচ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়েনি।

জানতে চাইলে র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) মাহফুজুর রহমান বলেন, হেরোইন-ইয়াবাসহ অন্যান্য যে মাদক রয়েছে, সেগুলো ডিটেক্ট করার ক্ষেত্রে আমরা অভ্যস্ত। তবে এলএসডি মাদক ছোট স্টিকারের মতো একটি স্ট্রিপ। এগুলো যে ড্রাগ, তা বুঝলে ডিটেক্ট করার মতো যেসব যন্ত্র, তা দেশে আছে কি না জানা নেই।

২-৩ ঘণ্টা, কখনো এরও বেশি সময় লেগে যাবে।

সর্বশেষ - সাম্প্রতিক

//intorterraon.com/4/5519413
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
izmit escort kadıköy escort ataşehir escort rize escort uşak escort amasya escort samsun escort ankara escort diyarbakır escort
sincan evden eve nakliyat