এক লাখ টাকার জন্য বিনা চিকিৎসায় দৃষ্টি হারানোর পথে নাহিদা | টুডে বিডি ২৪
মঙ্গলবার , ৩ মে ২০২২ | ২০শে আশ্বিন ১৪২৯
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আয় করুন
  4. আলোচিত সংবাদ
  5. খুলনা
  6. খেলাধুলা
  7. চট্টগ্রাম
  8. জাতীয়
  9. জেলার খবর
  10. টিপস
  11. ঢাকা
  12. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. নিউজ
  15. প্রেরণা
সর্বশেষ খবর টুডে বিডি ২৪ গুগল নিউজ চ্যানেলে।
   

এক লাখ টাকার জন্য বিনা চিকিৎসায় দৃষ্টি হারানোর পথে নাহিদা

                                           প্রতিবেদক
News Desk
মে ৩, ২০২২ ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ

চার বছর বয়সী নাহিদা খাতুনের জীবনের গল্প যখন শুরু তখন সে অন্ধকারের পথে ধাবিত হচ্ছে! বেড়ে উঠছে নাহিদা, কিন্তু জীবন থেকে তার হারিয়ে যাচ্ছে হই-হুল্লোড়, হাসি-খুশি! সারাদিন মনভার করে বিছানায় শুয়ে বা স্বজনদের কোলে চড়ে দিন কাটে এই শিশুটির।

 

সকাল-বিকাল প্রতিবেশী সমবয়সী শিশুরা নাহিদাকে খেলার জন্য ডাকতে আসে। তাদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে থাকতে ইচ্ছে হয় এই শিশুর। কিন্তু জন্ম থেকে দুই চোখে ছানি নিয়ে বেড়ে ওঠা নাহিদা যেতে পারে না চোখে একেবারেই কম দেখার কারণে!চিকিৎসক বলেছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই চোখের অপারেশন না করালে দৃষ্টিশক্তি হারাবে নাহিদা! এর জন্য প্রায় লাখ খানেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু পাবনার চাটমোহর উপজেলার শাহপুর গ্রামের দিনমজুর মিন্টু হোসেনের পক্ষে মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগানো সম্ভব নয়। স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে শিশুটি।

 

এখন চিকিৎসার অভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে নাহিদা! মেয়ের এমন করুণ অবস্থা দেখে ব্যাকুল হয়েছেন মা ও নূরুন্নাহার খাতুন। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি সহযোগিতা।

 

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, দিনমজুরি করে কোনো মতে সংসার চালান মিন্টু হোসেন। একভাই ও এক বোনের মধ্যে নাহিদা ছোট। অভাব থাকলেও এক ছেলের পর মেয়ে (নাহিদা) জন্ম নেওয়ায় দরিদ্র এই পরিবারটিতে সুখের কমতি ছিল না। কিন্তু নাহিদা বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রোদের আলোর দিকে তাকাতে পারতো না। মা-বাবা অথবা স্বজনদের কেউ কাছে গিয়ে নাহিদাকে ডাকলে দুই হাত তুলে হাতড়ে বেড়াতো শিশুটি। এতে সন্দেহ হয় নাহিদার বাবা-মায়ের।

 

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসককে দিয়ে দেখানোর পর তিনি বলেন, চোখের সমস্যা হয়েছে। ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর নাহিদাকে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেন, ‘নাহিদার দুই চোখের ছানি পড়েছে। সেটা জন্ম থেকে থেকেই। সেই সঙ্গে চোখের রেটিনাতেও কিছুটা সমস্যা রয়েছে। অপারেশন করালে সম্পূর্ণ সুস্থ হবে, নতুবা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারাবে নাহিদা।

আরও পড়ুন:  সুইফট নিষেধাজ্ঞায় অর্থ পরিশোধে জটিলতা

 

এ জন্য নাহিদাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধারদেনা করে বাবা মিন্টু হোসেন মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক দেখে নাহিদার দুই চোখের ছানি অপারেশন করে লেন্স লাগানোর পরামর্শ দেন। দুই চোখে উন্নতমানের লেন্স লাগানো এবং চিকিৎসার জন্য খরচ হবে ৭৮ হাজার টাকা। টাকার পরিমাণ শুনে দিশেহারা হয়ে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন অসহায় বাবা-মা। কোনোভাবেই চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না দরিদ্র এই পরিবারটি। বর্তমানে বিনা চিকিৎসায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে নাহিদা!

সবমিলিয়ে লাখ খানেক টাকার মতো খরচ হবে বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা নুরুন্নাহার বেগম যুগান্তরকে বলেন, সামান্য টাকার জন্য আজ আমার মেয়ে অন্ধ হওয়ার পথে। ভালো করে দেখতে পায় না। সামনে দাঁড়ালেও কোলে ওঠার জন্য আমাদের হাতড়ে বেড়ায়! এমন কষ্ট সহ্য হয় না। অনেকের কাছেই গেছি। কিন্তু কোথাও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাইনি। বড়ই অসহায় হয়ে পড়েছি আমরা। আপনি (প্রতিবেদক) একটা সংবাদ লিখেন। আমার মেয়ের চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করেন ভাই।

এ ব্যাপারে মূলগ্রাম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল কুদ্দুস রেজা যুগান্তরকে জানান, পরিবারটি খুবই অসহায়। তাদের পক্ষে এতো টাকার জোগাড় করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ - জাতীয়

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Copy link
Powered by Social Snap